সেরা ৫টি ভ্রমন বিষয়ক চাকরি যাতে আয় করা যায় আশাতীত

18

প্রচলিত ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেস্ক এ বসে চাকরি করার চাইতে ভ্রমন বিষয়ক চাকরি এখন অনেকের কাছেই প্রথম পছন্দ। এটি বিশেষ করে তখন আপনার নিকট খুবই গুরুত্বপূর্ণ যখন আপনি নিজেও ভিন্ন ভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখাতে অনেক বেশি আগ্রহী। গতানুগতিক চাকরিগুলিতে বার্ষিক ২ সপ্তাহের কমবেশি কিছু সময় ছুটি থাকে। যার কারণে অনেকেই এসব চাকরির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

কেমন হয় যদি আপনি এমন একটি চাকরি করেন যেখানে আপনি বছরের ভিন্ন ভিন্ন সময় নতুন নতুন সব জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাবেন! হ্যাঁ, আজ আমরা এমন কিছু চাকরি নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছি যেখানে ভ্রমনই হবে আপনার কাজ এবং তার বিনিময়ে আপনি ভালো অংকের পারিশ্রমিকও পাবেন।

ভ্রমন বিষয়ক চাকরি

ভ্রমন বিষয়ক চাকরি

ব্যুারো অফ লেবার স্ট্যাটিস্টিক এর একটি হিসাব মতে ২০১৯ সালে ৩০% মানুষ ভ্রমন বিষয়ক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ছে যা ২০১৮ সালের চাইতে ১৯% বেশি। এটা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে, মানুষ এখন ডেস্কে বসে কাজ করার পরিবর্তে ভ্রমণ বিষয়ক কাজের প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী। আর ভ্রমণ বিষয়ক কাজের মধ্যে রয়েছে-

ট্রাভেল ব্লগিং

ট্রাভেল ব্লগিং অনেকের জন্যই একই স্বপ্নের কাজ। ট্রাভেল ব্লগাররা সাধারণত নতুন নতুন জায়গায় ঘুরতে যান। এরপর তাদের অভিজ্ঞতার কথা ব্লগ পোষ্টের মাধ্যমে সবার সাথে শেয়ার করেন। একই সাথে সেই স্থানে যেতে হলে কি কি করতে হবে, কেমন খরচ পড়বে বা কিভাবে কিভাবে যাওয়া যাবে সেসব তথ্যও তারা পোষ্টে তুলে ধরেন।

ইন্টারনেটে হাজারো ট্রাভেল বিষয়ক ব্লগ রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে ড্যান ফ্লাইং সলো। প্রতিটি ব্লগেই দেখা যায় ব্লগাররা তাদের অভিজ্ঞতা এবং ভ্রমণকৃত স্থানের ছবি পোষ্ট করে থাকেন। আপনি চাইলে সেসব ব্লগ থেকে প্রথম দিকে আইডিয়া নিয়ে আপনার ট্রাভেল ব্লগিং শুরু করতে পারেন।

সাধারণ ট্রাভেল ব্লগিং থেকে মাসিক ১০০ ডলার থেকে ৩০০০০ ডলারেরও বেশি ইনকাম করা সম্ভব।

ট্রাভেল বিষয়ক ফ্রিল্যান্স রাইটার

এই কাজটি কিছুটা আগের কাজের মতই। তবে পার্থক্যটা হচ্ছে ট্রাভেল ব্লগিং করার জন্য আপনার নিজস্ব ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু ট্রাভেল ফ্রিল্যান্স রাইটিং এর জন্য নিজস্ব ব্লগ না থাকলেও চলবে। এ কাজটির জন্য আপনি আপনার ভ্রমণ বিষয়ক আর্টিকেল বিভিন্ন ম্যাগাজিন, ট্যুারিজম ওয়েবসাইট, গাইডবুক ইত্যাদি সাইটে পোষ্ট করে তার পরিবর্তে সম্মানি পেতে পারেন। ভ্রমন বিষয়ক চাকরি হিসেবে এটিকে বিশ্ব জুড়ে অনেক তরুণ-তরুণীই অহরহ গ্রহণ করছে।

কাজটি কিছুটা আপওয়ার্কে কাজ করার মতই। তবে ট্রাভেল ফ্রিল্যান্স রাইটিং এর জন্য আমার মতে সবচেয়ে ভালো ওয়েবসাইট হলো ফেক্সজব। আপনি এ কাজটিতে আগ্রহী হয়ে থাকলে এখই ফেক্সজবে সাইনআপ করুন এবং ট্রাভেল ফ্রিল্যান্স রাইটিং বিষয়ক জব সার্চ করে লেখা শুরু করে দিন।

একজন ভালো ট্রাভেল ফ্রিল্যান্স রাইটার তার আর্টিকেলের প্রতি শব্দের জন্য ০.১০ ডলার থেকে শুরু করে ১ ডলার পর্যন্ত সম্মানি পেয়ে থাকেন।

ট্রাভেল ট্যুর গাইড

আপনি যদি বেশ কিছু দর্শনীয় স্থানে ইতিপূর্বে ভ্রমণ করে থাকেন এবং সে স্থান সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা অর্জন করে থাকেন, তাহলে ট্যুর গাইড হওয়ার কাজটি আপনার জন্যই। এ কাজটির মাধ্যমে আপনি আপনার ভ্রমন সম্পর্কিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে অন্যদের ভ্রমনকে আরো বেশি আকর্ষনীয় ও আনন্দদায়ক করে তুলতে পারেন।

সাধারণত কিছু দিনের ভ্রমণ বিষয়ক অভিজ্ঞতা থাকলেই ট্রাভেল ট্যুর গাইড লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব। বিভিন্ন ট্যুরিজম কোম্পানীর মাধ্যমেও এ ধরনের কাজ পাওয়া যায়।

একজন সফল ট্রাভেল ট্যুর গাইড প্রতি মাসে ১০০০ ডলার থেকে শুরু করে ১০০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন।

ফ্রিল্যান্স ট্রাভেল ফটোগ্রাফার

আমাদের দেশে ইদানিংকালে ফটোগ্রাফি বিষয়ক কাজগুলি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। আমি লক্ষ্য করেছি ছাত্রজীবন থেকেও অনেকে শখের বসে ফটোগ্রাফি শুরু করে থাকেন। ফেসবুকে সার্চ করলে অসংখ্য ফটোগ্রাফি বিষয়ক পেজ দেখা যায়। আপনিও যদি ছবি তুলতে ভালোবেসে থাকেন, তাহলে এটি আপনার জন্য আদর্শ একটি কাজ।

এই কাজটির জন্য আপনার কিছু জিনিসের প্রয়োজন পড়বে-

  • একটি ভালো মানের ডিএসএলআর ক্যামেরা। বর্তমানে ক্যানন বা নাইকন সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ফটোগ্রাফি ক্যামেরার ক্ষেত্রে।
  • ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এবং হাই পাওয়ার জুম করার জন্য ভালো লেন্স।
  • ট্রাইপড।
  • একটি রিমোট শাটার।

যারা ফটোগ্রাফির সাথে ইতিমধ্যেই যুক্ত আছেন, তাদের কাছে উপরোক্ত জিনিসগুলি আগে থেকেই থাকার কথা। আর যারা নতুন করে শুরু করবেন বলে ভাবছেন, তারা এগুলি কিনে ফেলুন। তারপর নতুন নতুন জায়গায় গিয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি তুলে ফেলুন। আপনি চাইলে এই ছবিগুলিকে বিভিন্ন ম্যাগাজিন, মার্কেটিং ক্যাম্পেইন কোম্পানী কিংবা ট্যুরিজম ওয়েবসাইটের কাছে বিক্রয় করতে পারেন। একই সাথে বিভিন্ন ষ্টক ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইটেও ছবিগুলি আপলোড করে ইনকাম করা সম্ভব।

একজন ভালো ফ্রিল্যান্স ট্রাভেল ফটোগ্রাফার ১০০০ ডলার থেকে শুরু করে ১০০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন।

ট্রাভেল বিষয়ক ভিডিও ব্লগার

বর্তমানে ট্রাভেল বিষয়ক ভিডিও ব্লগিং দিন দিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করছে। ইন্টারনেটের এই যুগে মানুষ কোন জায়গা সম্পর্কে পড়ে দেখার চাইতে ভিডিওতে সেই জায়গাটিকে দেখাকে বেশি পছন্দ করে। আর এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ইউটিউবসহ বিভিন্ন ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়াতে অসংখ্য ট্র্যাভেলিং ভিডিও চ্যানেল তৈরী হয়েছে। তবে শুধু ইউটিউবে চ্যানেল তৈরী করলেই হবে না, একজন সফল ইউটিউবার হওয়ার জন্যে চ্যানেলের মার্কেটিং করার ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে।

একজন ভিডিও ট্রাভেল ব্লগার তার যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করেন। পরবর্তীতে ভিডিও এডিট করে তার ভিডিও চ্যানেলে আপলোড করেন এবং বিজ্ঞাপন ও স্পন্সরশীপের মাধ্যমে আয় করেন।

একজন জনপ্রিয় ট্রাভেল রিলেটেড ভিডিও ব্লগার মাসিক ১০০০ ডলার থেকে শুরু করে ২০০০০ ডলারেরও বেশি আয় করে থাকেন।

ভ্রমন বিষয়ক চাকরি থেকে আয়ের আগ্রহ রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু সঠিক গাইডলাইনের অভাবে অধিকাংশ ব্যক্তিই এ ধরনের কাজের সাথে যুক্ত হলেও পরবর্তীতে সফলতা অর্জণ না করতে পেরে হতাশ হয়ে পড়েন। আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে যে উপরোক্ত কাজগুলির মধ্যে কোনটি আপনার জন্য সহজ ও উপযুক্ত। যদি একবার এটি বুঝতে পারেন এবং সেই মোতাবেক পরিশ্রম করেন, তাহলে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবণা শতভাগ।

কমেন্ট করুন

ফেসবুক পেইজে লাইক দিন