‘যে সে লোকের’ রাজনীতি ও মধ্যবিত্তের অনীহা

17

সম্প্রতি প্রথম আলোয় প্রকাশিত অধ্যাপক আলী রীয়াজ ‘নতুন মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক ভূমিকার অবসান?’ শিরোনামের লেখায় মধ্যবিত্তের রাজনীতি-বিমুখতার যে কারণগুলো তুলে ধরেছেন সেগুলো নিঃসন্দেহে মুখ্য বিবেচ্য। পাশাপাশি ইন্টারনেটের এই যুগে ‘যে সে লোক’-এর রাজনীতিবিদ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতি রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠাকে অত্যন্ত গৌণ উপকরণ হিসেবে হলেও চিহ্নিত করা যায় বলে মনে করি। বর্তমান ইন্টারনেট দুনিয়ায় সবাই আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করতে সক্ষম। জানা বোঝার সুযোগ যেমনি বিস্তৃত হয়েছে তেমনি প্রসারিত হয়েছে মত প্রকাশেরও সুযোগ। কিন্তু সুযোগের সদ্ব্যবহারের চেয়ে অ্যাবিউজ বা অপব্যবহার হচ্ছে অনেক বেশি। ফলে সবক্ষেত্রে এর ভুক্তভোগী হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। তথাকথিত রাজনীতিতে তাই তাদের আর জায়গা হচ্ছে না। এ বিষয়ে আলোচনার আগে স্বল্প পরিসরে দুটি নিকট অতীতের বিষয়ের অবতারণা করতে চাই। 

মানি আর না মানি সময় যে অতি মূল্যবান সেটি আমরা সবাই জানি। কিন্তু সময় দেখার যন্ত্র অর্থাৎ ঘড়িও যে এক সময় মহামূল্যবান ছিল সেটি অন্তত বয়সে যারা এখন তরুণ তাদের ধারণায় নাও থাকতে পারে। তবে এ কথা সত্য যে, একটি সময় ছিল যখন সবার পক্ষে ঘড়ি ব্যবহার সম্ভব ছিল না। প্রথমত এর দামের কারণে, এবং দ্বিতীয়ত ধরে নেওয়া হতো এটি শিক্ষিত ও পয়সাওয়ালা লোকদের ব্যবহার্য। ফলে এক শ্রেণি যারা শিক্ষিত, চাকরিজীবী এমন এবং আরেক শ্রেণি যারা খুব বেশি কিংবা মোটেই শিক্ষিত নন অথচ পয়সাপাতি আছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করেন এই দুই শ্রেণির মানুষের হাতেই শোভা পেত মূল্যবান সময় দেখার এই মহামূল্যবান যন্ত্রটি। এদের কেউ কেউ নিজের পয়সায় কিনলেও বেশির ভাগই বৈবাহিক সূত্রে যৌতুক হিসেবে শ্বশুর বাড়ি থেকে প্রাপ্ত হতেন। বিয়ে মানেই জামাইকে একটি ঘড়ি দিতে হবে, সেটি এ সময়ে ছিল এক প্রকার অবধারিত বিষয়।
ঘড়ি পরে এসব মানুষ যখন বাইরে বের হতেন, তখন পথচারীদের অনেকেই কয়টা বাজে জানতে চাইতেন। আর ঘড়ি ব্যবহারকারী হাতটা সামান্য ঝাঁকি দিয়ে ঘড়িটি চোখের সামনে এনে সময় বলে দেওয়ার মধ্যে আনন্দ এবং গর্ববোধ করতেন। দরিদ্র কিংবা অশিক্ষিত মানুষকে ঘড়ি পড়তে দেখলে পেছনে তাচ্ছিল্য করা হতো। কিন্তু সময়ের মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও সময় দেখার যন্ত্রটির দাম এক সময় সাধারণের নাগালে আসতে শুরু করে। ফলে দরিদ্র, অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত ব্যক্তিরাও সময় দেখা ছাড়াও ফ্যাশন কিংবা অন্য কোনো বিবেচনায় ঘড়ি ব্যবহার করতে শুরু করেন। তখন উপরিউক্ত দুই শ্রেণির সমালোচনা ছিল এমন, “এখন ‘যে সে লোক’ ঘড়ি হাতে দেয়, তাঁদের আর ঘড়ি হাতে দিতে ইচ্ছে করছে না।” ইচ্ছে না করলেও কেউ কিন্তু ঘড়ি ব্যবহার বন্ধ করেননি। বরং ঘড়ির আসল ব্যবহার শুরু করেছেন। অর্থাৎ চাকরি-বাকরি-ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সময় দেখা কিছুটা হলেও প্রয়োজনীয় ছিল। তাই অহংকার কিছুটা চূর্ণ হলেও ঘড়ি তারা ছাড়তে পারেননি। কেউ কেউ বড়জোর ঘড়ি প্রদর্শনের জন্য অকারণে জামা-পাঞ্জাবির হাতা গুছিয়ে রাখার প্রবণতা ছেড়েছেন মাত্র।
আমার দেখা মোবাইল ফোনের ইতিহাসটিও অনেকটা ঘড়ির মতোই। তবে মোবাইল যুগে এসে যৌতুকের প্রতি সাধারণ আর মধ্যবিত্ত শ্রেণির কিছুটা সহনশীলতা লক্ষণীয়। যৌতুক চাওয়ার প্রবণতা কমে এসেছে। যারা একেবারেই লোভ সংবরণ করতে পারেন না তারাও অন্তত পরিবর্তন করেছেন চাওয়ার ধরন। “কোনো চাওয়া নেই, তবে মেয়ে আর মেয়ের জামাইকে খুশি হয়ে কিছু দিলে আপত্তি নেই। ” পাত্রপক্ষ থেকে এমন আভাস পাওয়া মানে পাত্রকে কিছু দিতে হবে বলেই ধরে নেওয়া হয়। তাই বলে মোবাইল ফোন কোনো কালে যৌতুকের তালিকায় ছিল বলে আমার জানা নেই।
আসল কথায় আসি। মোবাইল ফোন ছিল এক সময় একমাত্র শহরকেন্দ্রিক বড় শিল্পপতি ব্যবসায়ীদের কাছে। গ্রামীণ ফোন আসার পরেও কিছুকাল এটি কেবল ব্যবসায়ী ও ভালো বেতনের চাকরিজীবীদের হাতেই দেখা যেত। বিশেষ করে একটু ভালো মানের কোম্পানির যে কোনো বিভাগের এক্সিকিউটিভদের মোবাইল ফোন ছাড়া আর কোনো মতেই যেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা চলছিল না। কোম্পানি থেকেই তাদের এসব ফোন সরবরাহ করা হতো। এ ছাড়া যাদের সামর্থ্য নেই কিন্তু জরুরি কথা বলা প্রয়োজন পড়ত, তারা দ্বারস্থ হতেন কাছের মোবাইল ফোন সেবাদান কেন্দ্রগুলোতে।
এখন অবশ্য শহরে-গ্রামে সবার হাতেই রয়েছে মোবাইল ফোন। লক্ষণীয়, মোবাইল ফোনের ব্যবহার যখন সাধারণ শ্রেণি বা তথাকথিত যে সে লোকের হাতে আসতে শুরু করল তখন আগে থেকে যারা ব্যবহার করতেন তাদের মধ্যে আর তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, যেটি দেখা গিয়েছিল ঘড়ির ক্ষেত্রে। তবে সামাজিক একটি মারাত্মক বিপত্তি এসে গিয়েছিল কোনো কোনো ফোন কোম্পানির ফ্রি অফারের কারণে। রাত দশটার পরে একই কোম্পানির ফোন নম্বরে ফ্রি কথা বলা যেত। এই সুযোগে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণী আর রসিক যুবক-যুবতীদের কেবল অপেক্ষা কখন রাত দশটা বাজে। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে নয়, উল্টাপাল্টা নম্বরে ফোন করে বিপরীত লিঙ্গের কাউকে পাওয়া গেলেই শুরু হয়ে যেত কথা। ফ্রি অফার বেশি দিন কার্যকর না থাকায় জাতি সে যাত্রায় কোনোমতে রক্ষা পেয়েছে বলা যায়। মানুষ তখন মোবাইলের আসল যে ব্যবহার জরুরি কথা বলা, তার মধ্যেই সীমিত থাকতে অভ্যস্ত হতে থাকল। তবে অল্প সময়ের সেই ফ্রির ধাক্কায় ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছিল পরকীয়া প্রেম আর সংসার ভাঙার ঘটনা। সমাজে পরকীয়া আর সংসার ভাঙার প্রবণতা এখনো আছে। তবে তার জন্য যে কেবল মোবাইল ফোনই দায়ী, সে কথা বলা বোধ হয় ঠিক হবে না।
উপরিউক্ত দুটি ডিভাইস বা যন্ত্রের ব্যাপক প্রসারে ঘড়ির ক্ষেত্রে সামান্য সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে যে অনৈতিক সম্পর্ক অতঃপর সংসার ভাঙার সূত্রপাত হয়েছিল, তাতে দেশ-রাষ্ট্রের মৌলিক কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে ভিকটিমদের মধ্যে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হলেও জাতীয় ভাবনায় উদ্বেগের সৃষ্টি করেনি। কিন্তু যেদিন থেকে বাংলাদেশে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ইন্টারনেট নামক অপার সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে, এবং কম্পিউটার থেকে মোবাইল ফোনে এসে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে, আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলা প্রয়োজন ‘যে সে লোক’র হাতে চলে গেছে সেদিন থেকে প্রকৃত অর্থেই উৎকণ্ঠার জন্ম নিয়েছে। এবার তা জাতীয় ভাবনার মূলেও আঘাত হেনেছে। সরকার কর্তৃক আরোপিত বিভিন্ন ধারা তারই প্রমাণ। এতক্ষণে একটি কথা বলে নেওয়া ভালো যে, ‘যে সে লোক’ বলে কাউকে হেয় বা খাট করা উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু যে সব বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নই কিংবা জানা-বোঝার অভাব রয়েছে অথবা বিষয়ের অপব্যবহারে লিপ্ত সে সব বিষয়ে আপনি-আমি যে ‘যে সে লোক’ তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ইন্টারনেট দুনিয়ায় আমাদের অজ্ঞতা আর অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট জটিলতার সব বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা বিশাল এবং ব্যাপক। তবে তা আলোচনার দাবি রাখে নিঃসন্দেহে। আজ অতি স্বল্প পরিসরে মধ্যবিত্তের রাজনীতিতে এর প্রভাব সম্পর্কে কিছু বলার প্রয়াস পাচ্ছি।
ফেসবুকের কল্যাণে বন্ধু-স্বজন আজ কেউ কারও থেকে দূরে নয়। সকাল বিকেল প্রতিনিয়ত কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোনে ফেসবুক খুলি পরিচিতজনের মুখ কিংবা স্ট্যাটাস দেখার জন্য। খুঁজি তাদের ভালো-মন্দের খবরাখবর। সেই সঙ্গে দেশ-বিদেশের নানা খবরও। কিন্তু ইদানীং সেসব সহসা খুঁজে পাওয়া যায় না। কাঙ্ক্ষিত কিছু খুঁজে পাওয়ার আগেই চোখে পড়বে শ’খানেক স্ট্যাটাস, সঙ্গে নানা ধরনের রাজনৈতিক পোস্টারের ছবি। যে পোস্টারের মধ্যে আবার দেখা যায় কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ জনের ছবি-নেতা, তাঁদের উত্তরসূরি, স্থানীয় বড় নেতা, মাঝারি নেতা, পাতি নেতা, ছাতি নেতা, অতঃপর যিনি পোস্ট করেছেন তাঁর ছবি। পাওয়া যায় পদ-পদবীপ্রাপ্তদের শুভেচ্ছা জানানোর স্ট্যাটাস। পাশাপাশি পদবি তাদের আহাজারিমূলক স্ট্যাটাস। ফেসবুকে রাজনীতি নিয়ে মেতে থাকা এই শ্রেণির অনেকেই বিভিন্ন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের লিংক শেয়ার করেন, যেগুলো মূলত মুদ্রিত চটি পত্রিকার অনলাইন ভার্সন ছাড়া আর কিছু নয়।
কেউ কেউ আগ্রহ করে কৌতুহলবশত চটি পত্রিকা কিনে পড়েন। ভেতরে পড়ে হয়তো দেখতে পান, কোনো অজপাড়াগাঁয়ে খালেদা নামে কোনো মহিলা সম্প্রতি মা হয়েছেন, হাসিনা নামের কোনো এক বিধবা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন কোথাও। এবং ওই সংবাদগুলোও মূলত মিথ্যা প্রচার করা হয়। কেউ সেগুলো যাচাই করতে যায় না। অনলাইনে কাউকে এসব চটি পত্রিকা বিক্রির জন্য হাঁক দিতে হয় না। কিন্তু কৌশলে প্রচার করা হয়। আর সেগুলোরই লিংকে এখন ভরে থাকে ফেসবুকের পাতা। যে বা যারা এসব কেনেন কিংবা অনলাইনে পড়েন, তারা যে ‘যে সে লোক’ সে কথা বলতে আমার দ্বিধা নেই। যাই হোক, এই হলো ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ায় ‘যে সে লোক’র রাজনীতির হাল হকিকত। বাস্তব দুনিয়ায়ও যে একই অবস্থা সেটি যে কোনো উপজেলা শহরে এমনকি গ্রাম-গঞ্জের হাটে-বাজারে সামান্য ঘুরলেই অনুধাবন করা সম্ভব। পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে আছে হাট-মাঠ-ঘাট, গ্রাম-গঞ্জ, শহর-উপশহরের অলিগলি ওই একই শ্রেণির একই কায়দার প্রচার প্রচারণায়। পড়া-শোনা নাই, জানা-শোনা নাই, কোনো মতে মেট্রিক বা তারও কম। তারাই এখন ফেসবুক আর পাড়া-মহল্লা পোস্টারে ছেয়ে ফেলছেন।
কিছুকাল আগ পর্যন্তও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত মধ্যবিত্ত শ্রেণি। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, পাড়া-মহল্লার শিক্ষিত যুবক শ্রেণি। এই মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ভাবনা এবং সংকোচ। আর অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তাদের পারিবারিক শিক্ষা। তারা যে কোনো বিষয়ে ভাবেন বেশি। কোনো কিছু করার আগে আগ-পাছ, ভালো-মন্দ, নিজেদের অবস্থা-অবস্থান, অন্যমহলে কী প্রতিক্রিয়া হবে সে সব ভেবেই তারা অগ্রসর হন। সবশেষে কোনো বিষয়ে চিন্তা চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে তারা যখন ভার্চ্যুয়াল (ফেসবুক) অথবা বাস্তব জগতে পা বাড়ান তখন দেখতে পান তাদের আগেই সেসব বিষয়ে ‘যে সে লোক’র যে সে ধরনের হাজারো মতামত, প্রতিক্রিয়া আর সিদ্ধান্ত। ফলে তারা অবধারিতভাবেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আর স্থানীয় যারা নেতা, তাদের ভালো মন্দ ভাবার সময় কম! কে তাদের নিয়ে কত দ্রুত, কত বড় শব্দে, কত বেশি ঢোল বাজাতে সক্ষম হয়েছে সেটিই মুখ্য বিষয়। তাই এসব বড় নেতাদের চারপাশ ঘিরে এখন ‘যে সে লোক’রই আনাগোনা বেশি। রাজনীতি সম্বন্ধে যাদের ন্যূনতম ধারণা রয়েছে, যারা প্রকৃত অর্থে রাজনীতি বোঝেন সেই মধ্যবিত্ত শ্রেণির রাজনৈতিক সব চিন্তা-চেতনা আজ কেবল নিজেদের মাথার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে, প্রকাশ হচ্ছে না। তারা পিছিয়ে পড়ছেন ফেসবুক আর পোস্টার নির্ভর যে সে লোকের রাজনীতির ধাক্কায়। বাইরে রাখছেন নিজেদের এসব ঠেলাঠেলি থেকে। কারণ কাউকে ঠেলে সামনে যাওয়া শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির রুচিবোধের একেবারেই বাইরে। ফেসবুকে রাজনৈতিক প্রচারণা করেন সবাই যে একই শ্রেণির তা বলছি না। তবে বেশির ভাগই। আর এভাবে চলতে থাকলে রাজনীতির অবস্থা কী হবে সেটি ভাবতে গেলে সত্যি গা শিউরে ওঠে!
এখন প্রশ্ন হলো, এসব থেকে উত্তরণের পথ কী? সোজা উত্তর-ইন্টারনেটই উত্তরণের পথ। সব মানুষকেই রাজনীতি করতে হবে সেটি যেমন কথা নয়, তেমনি সবাই রাজনীতিবিদ হলেও সমস্যার কিছু দেখি না যদি সবাই প্রকৃত রাজনীতিবিদ হন। কিন্তু যারা বিভিন্ন দল করেন তারা যদি নিজ দল সম্বন্ধেই কিছু না জানেন, দলের ইতিহাস না জানেন, যে দেশে রাজনীতি করবেন তার ইতিহাস না জানেন, আর জানলেও তা দুঃখ-গত, নিজের পছন্দের উৎস থেকে জানেন তাহলেতো যে সে লোকই থেকে গেলেন। বড় জোড় যে সে রাজনীতিবিদ হলেন। বরং সবাই আসুন ইন্টারনেটের মাধ্যমে জানি সবকিছু। শিখতে চেষ্টা করি। প্রকৃত মানুষ হই, হই প্রকৃত রাজনীতিবিদ। আর মধ্যবিত্ত শ্রেণির উচিত হবে নিজেকে গুটিয়ে না রেখে, পাশ কাটিয়ে না গিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসা।
শেষ করছি শামসুদ্দীন আবুল কালামের ছোট গল্প ‘পথ জানা নাই’ দিয়ে। হুবহু না হলেও যত দূর মনে পড়ে গল্পের শুরুটা ছিল এ রকম, গফুর রাগে দুঃখে ক্ষোভে গ্রামের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া প্রধান সড়কটির ওপর কোদাল চালাতে থাকে। সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ার পরে যে সংক্ষিপ্ত রূপ পাওয়া যায় তা হলো…গ্রামের মধ্যে দিয়ে একটি পাকা রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব এলে গ্রামবাসী তার বিরোধিতা করেন। পরে তাদের বোঝানো হয় রাস্তা নির্মাণ হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা দিক দিয়ে কী কী উপকার হবে। এক সময় মানুষ তা গ্রহণ করে। রাস্তা নির্মিত হয়। অবশেষে সেই রাস্তা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা উন্নতি আসে ঠিকই সঙ্গে আসে চোরা কারবারসহ আরও কিছু। একদিন শত্রু মিলিটারি আসে এই পথ দিয়েই। আধুনিকতার নামে আসে অশ্লীলতা। এসবের সঙ্গে এলাকার মানুষ কখনই পরিচিত ছিল না। ফলে হঠাৎ করে বদলে যাওয়া সবকিছুর সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয় গল্পের নায়ক গফুরসহ অনেকে। একদিন শহর থেকে আসা কোনো এক আধুনিক নাগরের সঙ্গে পালিয়ে যায় গফুরের বউ। রাগে-দুঃখে-ক্ষোভে গফুর তাই ভেঙে ফেলতে চায় সেই সড়ক, সজোরে কোদাল চালাতে থাকে সেই সড়কের ওপর।
প্রিয় পাঠক আমরা চাইলেও ইন্টারনেটের মহাসড়কে কোদাল চালাতে পারব না। কিন্তু আমাদের মনোজগতে পরিবর্তন ঘটানোর সুযোগটি কিন্তু আমাদেরই হাতে।

কমেন্ট করুন

ফেসবুক পেইজে লাইক দিন